এইচ এম সাইফুজ্জামান খান:
ধুলিহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ওমর ফারুক (৩) নিহত হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ধুলিহর–সুপারীঘাটা সড়কের আজাদ গাজীর বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক ধুলিহর পূর্বপাড়া গ্রামের দিনমজুর সারাফাত গাজীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তার পাশে শরবত বিক্রি হচ্ছিল। শিশু ওমর ফারুক শরবত আনতে গেলে বিক্রেতা তাকে বাড়ি থেকে গ্লাস নিয়ে আসতে বলে। গ্লাস আনতে গিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির মাটিবাহী একটি ট্রলির সঙ্গে ধাক্কা লেগে সে চাকার নিচে পিষ্ট হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশু ওমর ফারুকের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেতনা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির কারণে এই সড়কে প্রতিনিয়ত দ্রুতগতির ট্রলি চলাচল করছে, যা এলাকার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, ধুলিহর–সুপারীঘাটা সড়কের আশেপাশে ধুলিহর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধুলিহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মফিজ উদ্দিন বিশ্বাস ক্যাডেট মাদ্রাসা, হাসানুল বান্না হাফিজিরা মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য শিশু-কিশোর এই সড়ক পারাপার করে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা জানান, ভোরবেলায় ফজরের নামাজ আদায় করতেও মসজিদে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ট্রলি ও ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবাদ জানালে কিছু প্রভাবশালী মহল তা উপেক্ষা করে। তাদের দাবি, অবিলম্বে বেতনা নদী থেকে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ করতে হবে এবং এই সড়কে ট্রলি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, আর যেন কোনো নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ এভাবে ঝরে না যায়।
