
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অনড় থাকায় সাতক্ষীরা-৩ আসনের ডা. শহীদুল আলমসহ ৫৯ জন নেতাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ধানের শীষ প্রতীকের বাহক কাজী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিলো দলটির হাইকমান্ড। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারাদেশের কথা জানানো হয়।
সাতক্ষীরা-৩ আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট : সাতক্ষীরা-৩ আসনটি বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কাজী আলাউদ্দিনকে। দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে তিনি যখন নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত, ঠিক তখনই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহীদুল আলম।
তৃণমূল সূত্রে জানা যায় : কাজী আলাউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই ডা. শহীদুল আলমের সমর্থকরা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। গত প্রায় এক মাস ধরে তারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। দলের কেন্দ্র থেকে বারবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও ডা. শহীদুল আলম তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানান এবং কাজী আলাউদ্দিনের বিপক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। অবশেষে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হলো।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞপ্তি: প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য বিএনপি’র নিম্নবর্ণিত নেতৃবৃন্দকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও ডা. শহীদুল আলম সাতক্ষীরা-৩ আসনে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তার ব্যাপক ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও কর্মী-সমর্থক থাকায়, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনের সাথে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
